লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই শতাধিক ঘড়
টেকনাফ প্রতিনিধি
রাতারাতি ছাই হয়ে গেল একটি জনপদের অস্তিত্ব। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য পরিবারের শেষ আশ্রয়টুকু। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়েছে বাঁশ-ত্রিপলের ঘর, পুড়েছে শিশুদের স্কুলব্যাগ, মায়েদের রান্নার হাঁড়ি আর বৃদ্ধদের জীবনের শেষ সম্বল।
ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে তা দানবীয় রূপ নেয়। বাতাসে ভেসে ওঠে পোড়া প্লাস্টিক আর মানুষের অসহায় চিৎকার। আগুন থেকে বাঁচতে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ায় নারী ও শিশুরা—কেউ কোলে সন্তান, কেউ মাথায় সামান্য কাপড়চোপড়। কিন্তু আগুনের কাছে হার মানে সব প্রস্তুতি, সব চেষ্টা।
ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ধ্বংস হয়ে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে জীবনের শেষ ভরসা—পরিচয়পত্র, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, পোশাক আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
আগুনের পরের দৃশ্য আরও হৃদয়বিদারক। ছাইয়ের ওপর বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধা নারীরা। শিশুরা খালি পায়ে পোড়া মাটির ওপর দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে—যেখানে ছিল তাদের ঘর, আজ সেখানে শুধুই কালো ছাই। অনেক পরিবার আজ না খেয়ে, না ঘুমিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়া মানুষগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যের অভাব এবং চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হচ্ছে। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও অজানা। কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশ্ন একটাই—এই ধ্বংসের দায় নেবে কে? বারবার আগুনে পুড়ে যাওয়া এই ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হবে কবে?
মানবিক সহায়তা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এখন জরুরি আহ্বান—দ্রুত খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা না পৌঁছালে লেদা ২৪ নম্বর ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ড একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
আজ লেদা ক্যাম্পে শুধু ঘর পুড়েনি—পুড়েছে মানুষের শেষ আশাটুকুও।

