আশুলিয়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের জোরালো অভিযান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৫
মো:সুজন আহমেদ – (বিশেষ প্রতিনিধি) : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাত্র সোয়া দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি পৃথক এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৭৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৩০ গ্রাম গাঁজা। তবে ধারাবাহিক এসব অভিযানের পর নতুন করে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এত মাদক কোথা থেকে আশুলিয়ায় প্রবেশ করছে এবং এর পেছনে সক্রিয় কোনো বড় সরবরাহকারী চক্র রয়েছে কি না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত নয়ারহাট, টংগাবাড়ী ও জামগড়া এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদকের উৎস ও নেপথ্যের নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, তিন অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আব্দুল আজিজ (৪৫), মো. তালেব ইসলাম শুভ (২৮), মো. হজরত আলী (৩৫), পারভেজ হোসেন (২৬) এবং আবুল কালাম আজাদ (৩২)।
অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজার এলাকায় এসআই রিয়াজ মাহমুদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুল আজিজকে আটক করা হয়।
এরপর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আশুলিয়া ইউনিয়নের টংগাবাড়ী এলাকায় এসআই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে নাভানা সিএনজি পাম্পসংলগ্ন সড়কে অভিযান চালিয়ে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ হজরত আলী, পারভেজ হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সবশেষে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জামগড়ার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ছয়তলা এলাকার একটি গোডাউনের সামনে অভিযান চালিয়ে এসআই মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে ১৩০ গ্রাম গাঁজাসহ তালেব ইসলাম শুভকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম-এর নেতৃত্বে শিল্পাঞ্চলজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তবে একই রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি এলাকায় মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে—মাদকের এই সরবরাহ শৃঙ্খলের মূল নিয়ন্ত্রক কারা? উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে আসে, কীভাবে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ, তাদের যোগাযোগের তথ্য এবং পূর্বের অপরাধের রেকর্ড যাচাই করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, শিল্পাঞ্চলকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু খুচরা কারবারিদের গ্রেপ্তার নয়—মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের প্রবাহ শনাক্ত করা সম্ভব হলে আশুলিয়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।

