ঝিনাইদহে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: গণপিটুনির পর পুলিশ হেফাজতে
নিজস্ব প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
________________________________________
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাহ আলম নামের এক সহকারী শিক্ষককে গণপিটুনি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, গত সোমবার ওই ছাত্রীর অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে শিক্ষকের অসদাচরণের বিষয়ে জানান। ছাত্রীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক গত দুই সপ্তাহ ধরে মেয়েটিকে ১০ টাকা করে দিতেন এবং ঘটনার দিন কাগজে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে দেখান। এতে ভয় পেয়ে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়।
প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ জানান, তিনি অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ে ফেরার পরপরই ১০-১২ জন বহিরাগত এসে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে প্রায় ৬ ঘণ্টা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা একটি হাতে লেখা চিঠি শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেয়, যা ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগপত্র হিসেবে দাবি করা হয়। তবে চিঠিটিতে কোনো স্বাক্ষর নেই এবং কার উদ্দেশ্যে লেখা তা স্পষ্ট নয়। চিঠিটির ভাষা ও শব্দচয়ন দেখে এটি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর লেখা কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক শাহ আলম বলেন,
”আমি একজন শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করার কথা ভাবতেই পারি না। হঠাৎ করেই ১০-১২ জন এসে আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।”
অন্যদিকে, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সৌরভ সরকার জানান, ভাতিজির মুখে ঘটনার কথা শুনে স্থানীয়রা শিক্ষককে মারধর করেছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
বর্তমানে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

